বিনয় কীভাবে মানুষের হৃদয়ে স্থান পেতে সাহায্য করে?

বিনয় কীভাবে মানুষের হৃদয়ে স্থান পেতে সাহায্য করে?

বিনয় এর আসল অর্থ হচ্ছে নিজেকে অন্যদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ বা বড় মনে না করা। একজন মানুষ যখন বিনয়ী হন তখন তার কথা, আচরণ সবকিছুতেই অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং সমমর্মিতা প্রকাশ পায়। প্রখ্যাত মনীষী হাসান বসরী বলেছেন, নিজের ঘর থেকে বের হওয়ার পর যে-কারো সঙ্গে সাক্ষাত্ হবে তাকে নিজের চেয়ে ভালো মনে করার নাম বিনয়। অন্যের সুবিধা-অসুবিধাকে সমমর্মিতার সাথে প্রাধান্য দেয়া, অন্যকে নিঃস্বার্থভাবে সাহায্যের জন্যে এগিয়ে আসা এবং কোনো ভুল বা অপারগতার জন্যে আন্তরিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করা একজন বিনীত মানুষের মনের সৌন্দর্য্যের প্রকাশ। স্নেহ, মমতা, উদারতা, ক্ষমা ও সদাচরণের এক অপূর্ব সমন্বয় হলো এই বিনয় । এর কোনো একটাকে বাদ দিয়ে আমরা বিনয়কে পরিপূর্ণ করতে পারব না।

আসলে একজন বিনয়ী মানুষ যে-কারো সেবায় সবসময় এগিয়ে আসেন। তিনি যে একজন বড় মাপের মানুষ এই বোধ নিয়ে নিজেকে আড়াল করেন না। ছোটখাটো সেবা দেবার ক্ষেত্রেও কখনো কুণ্ঠিত হন না। এ কারণে বড় মাপের মানুষরা অবলীলায় সেবা করে মানষের হৃদয় জয় করতে পেরেছেন।

একটু গভীরভাবে ভাবলে আমরা দেখব, কোন মানুষগুলোকে আমরা পছন্দ করি? যে মানুষগুলো হাসিখুশি, বিনয়ী, সদালাপী। তাদের সঙ্গই আমরা কামনা করি, প্রত্যাশা করি। সেই মানুষগুলোর উপস্থিতি কর্মস্থলে বা বাসায় পুরো আবহটাকে পাল্টে দেয়, আমাদের অন্তরকে আনন্দিত করে, স্বস্তি দেয়। আর আশপাশের যে মানুষগুলো একটু হামবড়া ভাব দেখায়, নিজেকে একটু বড় ভাবে, একটু অহংকারী মনে হয় সে যদি একটু হেসেও আমাদের সাথে কথা বলে আমরা হয়তো তার সঙ্গে স্বাভাবিক ভদ্রতা বিনিময় করব কিন্তু অন্তর থেকে তার উপস্থিতি পছন্দ করব না। আসলে বিনয় কোনোরকম খরচ ছাড়াই অন্যের মনে স্থান করে নেয়। বিনয় হলো এমন গুণ যা মানুষকে খুব সহজে কাছে টেনে নিতে পারে। বিনয়ী মানুষকে সবাই পছন্দ করে, ভালবাসে। বলা হয় যে, ফলবান বৃক্ষ মাটিতে বেশি ঝুঁকে থাকে। আসলে Paper money sounds more than paper money. অথচ, ধাতব মুদ্রার চেয়ে কাগুজে মুদ্রার মূল্যমান অনেক বেশী। অর্থাৎ যিনি যত বড় তিনি তত বিনয়ী। মেশকাত শরীফের একটি হাদীস হচ্ছে-আন্তরিক বিনয় সকল সৎগুণের উৎস। 

এখন প্রশ্ন হচ্ছে যে, আমরা বিনয়ী হতে চাই কিন্তু পারি না কেন? কারণ বিনয়ের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো অহম। যদি মনে হয় যে আমি অনেক পড়াশোনা জানা, আমার অনেক অভিজ্ঞতা আছে। আমি তো অমুক বংশের সন্তান, আমার বংশমর্যাদা অনেক।  আমরা তখন সাধারণ মানুষের সাথে মিশতে পারি না। সাধারণ জীবনযাপন করতে পারি না। ব্রান্ডের মধ্যে নিজের জীবনকে সীমাবদ্ধ করে ফেলি। আমি একটা বড় পদে আছি, আমার চেয়ে যারা নিচের পদে আছে, তারা আবার কে? তারা তো আমার চেয়ে কম বেতন পায়, মাস শেষে আমার কাছে হাত পাততে হয়। আমার ছেলেমেয়েরা আমার অহংকার, তারা ভালো ভালো স্কুল-কলেজে পড়ে। আমার বাবার গাড়ি আছে, বাড়ি আছে; আমি বুয়েটে পড়ি, মেডিকেলে পড়ি—ভাব তো আমার-ই থাকা উচিত, তাই না? কয়জন বুয়েটে চান্স পায়? ঢাকা ভার্সিটিতে চান্স পায়? আমার মতো মেধাবী কয় জন?

একটি ঘটনা বলি। তাহলে আমরা দেখব বিনয় কী, আর আমরা অহম কীভাবে প্রকাশ করি-

একবার এক রেল স্টেশন থেকে নেমেছেন এক ডাক্তার বাবু। তার হাতে একটা ছোট্ট ব্যাগ। এতটুকু ব্যাগ খুব সহজেই হাতে করে নিয়ে যাওয়া যায়। তবু ডাক্তার বাবু কুলি কুলি বলে চিৎকার করতে লাগলেন। একজন এগিয়ে এলেন ডাক্তার বাবুকে সাহায্য করবেন বলে। তার পরনে ধুতি, গায়ে মোটা চাদর। পায়ে সামান্য চটি। কুলি এসেছে ভেবে ডাক্তার তার হাতে ব্যাগ তুলে দিলেন। লোকটিও ব্যাগটা নিয়ে স্টেশনের বাইরে দাঁড়ানো ডাক্তার বাবুর পাল্কিতে পৌঁছে দিলেন। ডাক্তার তাকে দুটি পয়সা দিতে হাত বাড়ালেন। লোকটি বললেন, না, না, পয়সা দিতে হবে না। আপনি এত ছোট ব্যাগ নিয়ে বিপদে পড়েছিলেন বলে আপনাকে সাহায্য করতে এসেছি। ডাক্তার বললেন, পয়সা দিতে হবে না, তুমি কেমন কুলি! উত্তরে লোকটি বলল-আমি ঠিক কুলি নই। আমার নাম ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা। লোকে অবশ্য আমাকে বিদ্যাসাগর বলে ডাকে। আসলে এই মহান মানুষগুলো বিনয়ী ছিলেন বলেই মানুষের হৃদয়কে স্পর্শ করতে পেরেছিলেন।

আমাদের নিজেদের ভেতরের অহম যত নেমে আসবে তত সামাজিক ভারসাম্যও ফিরে আসবে। রাস্তায় ট্রাফিক জ্যামের কারণ কী? একজন রিকশাচালক, একজন ড্রাইভার, একজন ট্রাকচালক সবাই মনে করেন আমি কারো থেকে কম নাকি? আমি কেন লাইনে পেছনে দাঁড়াব। এ কারণে দেখা যায় সবাই সমান্তরাল লাইনে দাঁড়াতে গিয়ে রাস্তায় বসে থাকি। বলি যে, জ্যাম লেগেছে। আবার ধরুন রমনা পার্ক করা হয়েছে হাঁটার জন্যে। মানুষ হাঁটতে গিয়ে গ্রুপ তৈরি করছেন। গ্রুপ তৈরি করে হাঁটার পর বসে সবাই একসাথে বিরিয়ানি খাচ্ছেন। বিরিয়ানি খাওয়া কোনো সমস্যা নয়, সমস্যা কোথায়? খাবার পর প্যাকেটগুলো ওখানেই ফেলে পরিবেশ নষ্ট করাটা। এখন এই প্যাকেট কেন ফেললেন যদি বলতে যাই, তাহলে উল্টো শুনতে হবে হয়ত, ফেললাম তো কী হলো? আপনার জায়গায় ফেলি নাই? কেন এমন আচরণ? এটাই হচ্ছে অহম। অহম সবসময় বলে-আমি যা করছি সব ঠিক। 

অহম অস্থিরতা সৃষ্টি করে। এবং যা কিছু নিয়ে অহম করা হয়েছে বা হবে ইতিহাস বলে যে তা-ই তার পতনের কারণ হয়েছে বা সম্ভাবনা প্রবল থাকে। এক সুপারস্টার অভিনয় করলেন আত্মঅহংকার নামক একটি ছবিতে। পরবর্তীতে সাক্ষাতকারে তিনি নিজেই আফসোস করে বলেছেন যে, সেই ছবির পর থেকেই তার মনে অহম বাড়তে লাগল, কাজ কমতে লাগল এবং অন্য নায়কেরা সুপারস্টার হতে শুরু করল। পবিত্র কোরআনে সূরা লোকমান ১৮ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহতায়ালা বলেছেন-কখনো অহংকারবশত মানুষকে অবজ্ঞা কোরো না, মাটিতে গর্বিতভাবে পা ফেলো না। উদ্ধত অহংকারীকে নিশ্চয়ই আল্লাহ অপছন্দ করেন।

আসলে আমরা অনেক সময় বুঝতেও পারি না যে, আমাদের ভেতরে অহম কাজ করছে। আত্মকেন্দ্রিকতা ও আমারটা আগে’-এ দৃষ্টিভঙ্গি কিন্তু অহমেরই বহিঃপ্রকাশ। আমি বিনয়ী মানুষ এটি নিয়েও ভেতরে অহম থাকতে পারে। কাউকে সাহায্য করতে পারছি এটারও একটা অহম মনের মধ্যে কাজ করতে পারে। অনেক সৎকর্ম করেছি তা নিয়েও অহম থাকতে পারে। কিন্তু আমরা যদি শুধু অহম থেকে নেমে আসি তাহলে দেখব যে জীবনটা অনেক সুন্দর, অনেক আনন্দময়। 

আমার যদি ইতিহাসের দিকে তাকাই। মহামানবরা কেন মানুষের হৃদয়ে স্থান পেয়েছিলেন? কারণ তাদের মধ্যে অহম ছিল না। তারা প্রত্যেকেই ছিলেন বিনয়ের প্রতিভূ। মানুষের জন্যে তারা কিনা করেছেন! তারা অমানুষিক কষ্ট করেছেন, স্রষ্টার অনুকূল্য লাভ করেছেন, বিশেষ জ্ঞানে জ্ঞানী হয়েছেন। পৃথিবীকে তারা ঋণী করে গেছেন তাদের সেবা দিয়ে, কর্ম দিয়ে। মানুষের সঙ্গে তাদের আচরণে ছিল বিনয় ও নম্রতা। 

নবীজীর (স) জীবনে যদি আমরা তাকাই আমরা দেখব যে, তিনি ছিলেন সর্বাবস্থায় বিনয়ের এক মূর্ত প্রতীক। যখন তিনি অবিশ্বাসীদের দ্বারা আক্রান্ত ছিলেন তখন তো বিনয়ী ছিলেনই কিন্তু যখন তিনি তাদের ওপর জয়ী হয়েছিলেন তখনো তিনি বিনয়ী ছিলেন। মক্কা মুক্তির পর যখন তিনি উটের পিঠে চড়ে মক্কায় প্রবেশ করছিলেন তখন তার শির এতটাই অবনত ছিল যে উটের কুঁজের পেছনে তার মাথা দেখাই যাচ্ছিল না। অথচ আমরা কী জানি?জয়ীরা মাথা উঁচু করে বীরের বেশে ঢুকবে। পৃথিবীর ইতিহাসে জয়ী দলের নেতা বিজিত শহরে মাথা নিচু করে প্রবেশ করেছে এর নজির আর দ্বিতীয়টি নাই। ইবনে মাজাহ থেকে বর্ণিত হাদীসে আছে, রসুলের (স) সামনে দাঁড়িয়ে ঠকঠক করে কাঁপছিলেন এক গ্রাম্য বেদুইন। তিনি ভাবছিলেন যে, কত বড় রসুল এবং প্রতাপশালী শাসক তিনি। প্রিয়তম নবী (স) তাকে অভয় দিয়ে বললেন, তুমি শান্ত হও। আমি কোরাইশ বংশের এক সাধারণ মহিলার সন্তান, যে মহিলা রোদে শুকানো মাংসের টুকরা খেয়ে দিন কাটাতেন।

বিনয় কোনোরকম খরচ ছাড়াই অন্যের হৃদয়কে স্পর্শ করে। আমি সবসময় বিনয়ী হবো। আমরা যদি আমাদের চারপাশেও একটু তাকাই তাহলে দেখব যে কোন মানুষগুলো মানুষের মন জয় করতে পারেন, মানুষের হৃদয়ে স্থান পান? তারাই যারা বিনয়ী। তারাই যারা সদাচারী। সদাচরণ আর সুবচন ছাড়া আসলে আমি যে একজন বিনয়ী মানুষ সেটা প্রকাশ পায় না। 

এক অফিসে দুজন কর্মকর্তা পাশাপাশি বসেন। একজন অফিসে ঢোকার সাথে সাথেই পিয়ন মানে অফিস সহকারি চা নিয়ে আসেন। হাসিমুখে চায়ের কাপ হাতে নিয়ে তিনি পিয়নকে বলেন, খুব ভালো করেছ, এই সময়ে চা-টা দরকার ছিল। আর পাশেরজন তখন খ্যাচখ্যাচে স্বরে বলেন, আমাকেও দিস তো এক কাপ। একজন বলছেন তুমি, আরেকজন বলছেন তুই। এবং যথারীতি পিয়ন দেরি করছেন। এতে মেজাজ বিগড়ে তিনি আরো চেঁচিয়ে উঠে বলেন, অ্যাই চা দিতে দেরি করস ক্যান? দেখুন, একটু সম্মানজনক সম্বোধন আর ধন্যবাদ আর একটু হাসি চিৎকারের চেয়েও কত শক্তিশালী।

আসলে প্রত্যেক মানুষই সম্মান পাবার অধিকার রাখেন। তাকে সম্মান প্রদর্শন মানে প্রকারান্তরে স্রষ্টাকেই সম্মান প্রদর্শন। তাই সচেতনভাবেই যদি আমরা ড্রাইভার, গৃহকর্মী, রিকশাচালক, অফিস সহকারি এবং আমাদের অধীনস্থদের সম্মান করতে শুরু করি, আমাদের আচরণে বিনয় এর প্রকাশ আসতে শুরু করবে। পদ-পদবী বা যোগ্যতার ব্যবধান থাকলেও প্রত্যেককে তার প্রাপ্য সম্মান দেয়া মানে বিনয়ের প্রকাশ। ছোটদের স্নেহ ও বড়দের সম্মান করা মানে বিনয়ের প্রকাশ। আর বিনয়ের সূতিকাগার হচ্ছে পরিবার। পরিবারের সদস্যদের সাথে ভালো আচরণ করে যদি আমরা তাদের হৃদয়ে স্থান করতে পারি তাহলে আমরা যে-কারো হৃদয়ে স্থান করতে পারব। আসলে একটু বিনয়ী ব্যবহার করলে আমাদের কোনো অসুবিধা কি হয়? প্রতিদিন যাদের সাহায্য নিয়ে আমাদের চলতে হয় তাদের সাথে যদি আমরা একটু বিনয়ীভাবে কথা বলি তাহলে কিন্তু খুব সহজেই আমরা তাদের হৃদয়ে স্থান করে নিতে পারি। আসলে আমরা যদি সবার সাথে বিনয়ের সাথে কথা বলি তাহলে আমাদের হারানোর কিছু থাকবে না কিন্তু আমাদের অর্জন হবে অনেক বেশি। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ যদি আমাদের থাকে তাহলে আমাদের ভেতরে আর অহম থাকবে না। 

একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক এলেন ক্লাসে। সেদিন ছিল সেমিস্টারের প্রথম ক্লাস। ক্লাসে এসে শুরুতেই তিনি বললেন “আমি কিন্ত জ্ঞানী নই, তোমাদের চেয়ে বেশি জানি তা-ও না। শুধু পার্থক্য হলো আমি কিছুদিন আগে জেনেছি, তোমরা কিছুদিন পর জানবে! আর আমি জানার সময় যে অভিজ্ঞতা হয়েছিল তা বিনিময় করব তোমাদের সাথে।” তার সেই কথাগুলো খুব মনে ধরেছিল সেদিন সবার। বিনয় আসবে তখন যখন তার জায়গায় নিজেকে বসিয়ে দেখব। আমি তার জায়গায় থাকলে কী আচরণ প্রত্যাশা করতাম সেটা যখন বাস্তবে তার সাথে করতে পারব। ক্ষমাশীল দৃষ্টিভঙ্গি থাকবে যখন। এবং সবচেয়ে বড় যে বিষয় তা হলো-যখন নিজের মধ্যে ধর্মজ্ঞান থাকবে। বান্দার হক হচ্ছে সুব্যবহার পাওয়া। আমার কোনো কথা বা আচরণে কেউ কষ্ট পেলে তিনি মাফ না করা পর্যন্ত স্রষ্টার পক্ষ থেকে মাফ নেই। এই বোধটুকু থাকলে বিনয়ী আচরণ করা সহজ হয়। ধরুন, আমরা সবাই যদি একে অপরের সাথে বিনয়ী আচরণ করি তাহলে কত সুন্দর হবে সে-ই দিনটি।

বিনয়ী হওয়ার জন্যে নিজের ভেতরে ডুব দেয়া, আত্মপর্যালোচনা করা অর্থাৎ মেডিটেশন চর্চা করা অত্যন্ত ফলপ্রসু একটি প্রক্রিয়া। মেডিটেশন মানে আত্মনিমগ্ন হয়ে নিজের মুখোমুখি দাঁড়ানো। আয়নার সামনে দাঁড়ালে যেমন নিজের চেহারার খুঁতগুলো, নিজের পোশাকের খুঁতগুলো ধরা পড়ে, নিয়মিত আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে যেমন আমরা ধোপদুরস্ত হই। মেডিটেশনেও তেমনি আমরা আমাদের আত্মার মুখোমুখি দাঁড়াই, কোথায় কোন আচরণে, চিন্তায় আমাদের মলিনতা আছে, খুঁত আছে সেগুলো আমাদের চোখে পড়ে। আত্মপর্যালোচনা করতে পারি, আচরণকে আরো সুন্দর করার জন্যে আন্তরিকভাবেই বদলাতে পারি। মেডিটেশন করলে মনের ওপর নিয়ন্ত্রণ আসে, মন ভালো থাকে, ভেতরে সুখানুভূতি বজায় থাকে। আর যখন আমাদের মন ভালো থাকে তখন আমরা মানুষের সাথে ভালো আচরণ করি। বিনয়ী থাকার জন্যে সবসময় সৎসঙ্ঘে একাত্ম থাকাও প্রয়োজন। সঙ্ঘে আসলে আমাদের সদাচরণের চর্চার পরিমাণটা বেড়ে যায়। সঙ্ঘে থাকলে বিনয়ী হবার গুণগুলো খুব দ্রুত ও স্থায়ীভাবে বিকশিত হয়। 

যখনযখন রাগ আসে, তখন চুপ থাকতে হয়। কারণ রাগের সময় অসংলঙ্গ কথা মুখ দিয়ে বেরিয়ে যায়। আসলে রাগ হচ্ছে আমাদের বিনয়ী হবার পথের একটি প্রতিবন্ধকতা। রাগী মানুষকে কিন্তু কেউ হৃদয়ে স্থান দেয় না। সবাই তার থেকে বরং দূরে থাকেন। রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন-এই কথাটি মনে রাখতে পারলেও আমরা বিনয়ী থাকতে পারব। আমাদেরকে এই বিষয়টা মনে রাখতে হবে যে, শেষ পর্যন্ত আমাদেরকে প্রভুর কাছেই ফিরে যেতে হবে। তিনি বিনয় পছন্দ করেন। তিনিই এর সর্বোত্তম প্রতিদান দেয়ার মালিক। বিনয় স্রষ্টার সন্তুষ্টি লাভ করে, তাঁর অনুগ্রহ আমরা লাভ করতে অত্যন্ত সহায়ক একটি গুণ। সেইসাথে মানুষের হৃদয়ে স্থান লাভ করতে বিনয় অত্যন্ত সহায়ক। পরম করুণাময় আমদের সবাইকে বিনয়ী হওয়ার তৌফিক দান করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.